Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: সেপ্টেম্বর 11, 2017

গবেষণা সম্পর্কিত


প্রকাশন তারিখ : 15-07-17 9:19 পূর্বাহ্ন

Last updated on সেপ্টেম্বর 11th, 2017 at 04:18 অপরাহ্ন

গবেষণা বিভাগসমূহের পরিচিতি:

 

ন্যাচারাল প্রোডাক্টস রিসার্চ ডিভিশনঃ

লাক্ষা: এটি একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল যার শিল্প ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। অত্র বিভাগের গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিতে লাক্ষা হতে মোমবিহীন চাঁচ তৈরী করা হয় এবং তা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে যা পূর্বে বিদেশ থেকে আমাদনী করা হত। এর ফলশ্রুতিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। এই ডিভিশনে ভেষজ রং যেমন ইউক্যালিপটাস গাছের ছাল, মেহেদী পাতা , ডাবের খোসা, অর্জুন ফল ও অন্যান্য ডাই সমৃদ্ধ গাছ গাছড়া হতে পৃথকীকৃত রং এর সংমিশ্রন বস্ত্র শিল্পে প্রয়োগের ফলে রংয়ের গুনগুত মান পরীক্ষা করনের উপর গবেষণা চলছে।

অয়েল ফ্যাট এন্ড ওয়াক্স রিসার্চ ডিভিশনঃ

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণ প্রচলিত ও অপ্রচলিত তেল বীজ উৎপন্ন হয়। এসব তেল বীজ ভোজ্য ও অভোজ্য তেলের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব তেল বীজ থেকে আহরীত তেল ভোজ্য তেল হিসেবে ও চামড়া ট্যানিং, প্রসাধন সামগ্রী, পেইন্ট, বার্নিশ, ফ্যাটি এসিড ইত্যাদি তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া তেল বীজ থেকে তেল আহরনের পর প্রাপ্ত খৈল প্রোটিন ও পুষ্টিগুন সম্পন্ন হওয়ায় তা গবাদি পশুর উৎকৃস্টমানের খাদ্য ও জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলোর গুনাগুন ও ব্যবহার সর্ম্পকে যথাযথ জ্ঞান বা ধারণা না থাকায় তা নষ্ট হয়ে পরিবেশ দুষন করছে। গবেষণার মাধ্যমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে এসব তেল বীজ থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদন ও অভোজ্য তেলের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ অত্র বিভাগের মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এতে করে একদিকে যেমন ভোজ্য তেলের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে অন্যদিকে এগুলো থেকে শিল্পোৎপাদনযোগ্য পণ্য উদ্ভাবনের ফলে এগুলোর সর্ব্যােত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ্যাপলাইড বোটানী রিসার্চ ডিভিশনঃ

দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রাপ্ত উদ্ভিজ্জ সম্পদ হতে গবেষণার মাধ্যমে অর্থকরী শিল্প পণ্য উৎপাদনের টেকসই প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করার লক্ষ্যে এই গবেষণা বিভাগে বিভিন্ন গবেষণা কাজ করা হয়। শস্য পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ সম্পদের ব্যবস্থাপনা উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে এগুলোর সংরক্ষণ ও জাত উন্নয়ন করা এ বিভাগের অন্যতম কর্মকান্ড। পাশাপাশি বাংলাদেশে যে বিপুল পরিমাণ উদ্ভিজ্জ সম্পদ রয়েছে সে গুলো থেকে হিতকরী পদার্থ আহরনের জন্য বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো ও এই গবেষণা বিভাগের লক্ষ্য।

ফাইবার এন্ড পলিমার রির্সাচ ডিভিশনঃ

উত্তরবঙ্গে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক আঁশ ও পলিমার হতে বিভিন্ন পণ্য তৈরির পদ্ধতি ও তাদের মান উন্নয়নের গবেষণা করা এই বিভাগের প্রধান কাজ। প্রাকৃতিক আঁশের বহুমাত্রিক ব্যবহার, প্রাকৃতিক ঊৎস হতে রং প্রস্তুত, পলিমার পণ্য প্রস্তুতসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার সমস্যা নিরসনে বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক আঁশ ও হারবাল রং ভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠায় সহয়তা করা এই বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা আমাদের দেশের বেকার সমস্যা নিরসনসহ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখবে।

এ্যাপলাইড জুওলজি রিসার্চ ডিভিশনঃ

আমাদের দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন কৃষিজ শস্য যেমন ধান, গম, ডাল, তেলবীজ প্রভৃতি শস্যক্ষেতে ও গুদামজাত অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের কীট ও পোকা দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সকল অনিষ্টকারী কীট দমনে বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাতœক হুমকিস্বরূপ। এসব অর্থকরী ফসলকে রক্ষার জন্য পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিদজাত পেস্টিসাইড উদ্ভাবন অত্র বিভাগের প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়াও প্রচলিত ও বিরল প্রজাতির শোভাবর্দ্ধনকারী মাছের ব্রিডিং করে কম খরচে অধিক উৎপাদনশীল ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মাছের জাত উদ্ভাবন এই বিভাগের অপর একটি লক্ষ্য। দেশের উত্তরাঞ্চলের পরিবেশে প্রথমবারের মতো গলদা চিংড়ির বিজ্ঞানসম্মত চাষপদ্ধতি উদ্ধাবনের লক্ষ্যে গবেষণা চলছে। এতে করে একদিকে যেমন দেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে অপরদিকে শোভাবর্দ্ধনকারী মাছ ও চিংড়ি বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। মাছের বিভিন্ন পরজীবি, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ঘটিত রোগ মাছ চাষে প্রধান বাধা। প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ভেষজ এসব রোগ নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এসব ভেষজ থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন খাবার (ঋববফ) তৈরী করা জন্য গবেষণা চলছে। যা মাছের রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের কাজ করবে।

ড্রাগ্স এন্ড টক্সিন রিসার্চ ডিভিশনঃ

প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা প্রচুর পরিমান ঔষধি উদ্ভিদ এবং এর নির্যাস বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানী করে ফার্মাসিউটিক্যাল, ইউনানী, আর্য়ুবেদিক ও প্রসাধনী তৈরীতে কাচাঁমাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। গবেষণার মাধ্যমে লাগসই প্রযুক্তি উদ্বাবন করে এগুলোর সঠিক সনাক্তকরণ, গুনগতমান বিশে¬ষণ ও নিয়ন্ত্রন, টক্সিসটি পরীক্ষাকরণ, পরিকল্পিতভাবে চাষকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করে শিল্পে ব্যবহারযোগ্য কাচাঁমাল, নিত্য নতুন পার্শ্ব প্রতিক্রিযাহীন কার্যকর ভেষজ ঔষধ ও নতুন ভেষজ প্রসাধনী পণ্য তৈরী করাই অত্র বিভাগের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে অধিক কার্যকরী এসব পণ্য উৎপাদনের ফলে একদিকে যেমন জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সৌন্দর্য চর্চা হবে অপরদিকে আমদানী নির্ভরশীলতা কমবে এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

ফ্রুটস এন্ড ফুডস প্রসেসিং এন্ড প্রিজারভেশন রিসার্চ ডিভিশনঃ

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তথা রাজশাহী বিভাগে বিভিন্ন রকমের রসাল সুস্বাদুও পুষ্টিকর ফল এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ শাকসব্জী উৎপন্ন হয় । এতদাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উন্নতজাতের ফল যেমন,আম, কলা,লিচু, পেয়ারা, কাঁঠাল ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য অনুকুল হওয়ায় এসব ফল এবং বিভিন্ন শাকসব্জী সারা বছরই প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। তবে এসব ফল ও শাকসব্জী ঋতু ভিত্তিক ও দ্রুত পচনশীল হওয়ার কারণে যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষনের অভাবে প্রতি বছর প্রচুর পরিমানে মূল্যবান ফল, সব্জি নষ্ট হয়ে যায়। এ অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে মূল্যবান ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল ও সব্জি সুরক্ষার নিমিত্তে এবং সারা বছর প্রাপ্তির লক্ষে গবেষণা ও সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষনের মাধমে এসব দেশীয় মূল্যবান ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল ও শাক সব্জি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষনের মাধ্যমে এবং এতদ অঞ্চলের ফল ও সব্জী চাষী গণকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা ফ্রুটস এন্ড ফুড প্রসেসিং এন্ড প্রিজারভেশন রিসার্চ ডিভিশনের মূল লক্ষ্য।

গবেষণাগারের চলমান গবেষণা কর্মকান্ডঃ

  • আখের ছোবড়া, খয়ের ও কলাগাছের কান্ডের লিগনিন হতে প্রাকৃতিক কীটনাশক সার তৈরী।
  • আখের ছোবড়া ভিত্তিক লিগনিন ও ছোট কামিনির নির্যাসের সমন্বিত প্রভাবে গুদামজাত ভূট্টা এবং ধানের আপদ পোকার নিয়ন্ত্রন।
  • গুদামজাত গম ও ডালের আপদ পোকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তোষা পাটের বীজ এবং মালতিলতা উদ্ভিদের নির্যাস থেকে প্রাকৃতিক কীটনাশক উদ্ভাবন।
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন অর্নামেন্টাল মাছের প্রজনন কৌশলের উন্নয়ন।
  • তুঁত ফল গাছের মাইক্রোপ্রপাগেশন ও তুঁত ফল হতে বিভিন্ন খাদ্যপ্রান সম্পন্ন জুস, সিরাপ এবং চুয়িং টেবলেট তৈরী করণ।
  • বিভিন্ন জাতের আমের সংরক্ষন প্রযুক্তি এবং ফল ধারণ সক্ষমতা, উৎপাদন এবং গুনগত বৈশিষ্ট।
  • টমেটো গাছের মাইক্রোপ্রপাগেশন এবং টমেটো পন্যের সংরক্ষন প্রযুক্তি এবং এর গুনগত মান উন্নয়ন।
  • সিল্ক ওয়ার্ম এর বর্জিত কুকুন থেকে নিষ্কাষিত তেলের শিল্পকারখানায় ব্যবহার পর্যবেক্ষন।
  • বস্ত্র শিল্পের উপর সংমিশ্রিত প্রাকৃতিক রঙের প্রয়োগ পর্যবেক্ষন।
  • বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের মাধ্যমে লাক্ষাবীজ প্রাপ্যতা উন্নিত করণের উপর পর্যালোচনা।
  • আখের ছোবড়া, খয়ের ও কলাগাছের কান্ডের লিগনিন হতে প্রাকৃতিক কীটনাশক সার তৈরী।
  • চামড়া শিল্পের জন্য খয়ের ও খয়ের হতে প্রাকৃতিক রং তৈরী।
  • আনারস, মেস্তাপাট ইত্যাদি দেশজ গাছ গাছড়া হতে আঁশ নিষ্কাষণ ও এগুলোর অন্যান্য গুনাগুন পর্যবেক্ষণ।
  • ঔষধি ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বেকারী পণ্য (আটা, রুটি, কেক, বিস্কুট, সুপ, জুস, হালকা পানীয়, নুডুলস, পুডিং চকলেট) উৎপাদনের জন্য মিষ্টিকুমড়া ও গাজর প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি উদ্ভাবন।
  • বিভিন্ন ঔষধী গুন সম্পন্ন উদ্ভিদের (উলট কম্বল, বকফুল, জামাল গোটা, ছাতিম, ও আমলকী) এর নির্যাস ভৌত- রাসায়নিক পদ্ধতিতে পৃথকীকরণের মাধ্যমে নুতন ভেষজ পন্য উদ্ভাবন।
  • আমলকী প্রক্রিয়াজাত করণ এবং এর লাগসই ব্যবহার নিশ্চিত করণ।

Share with :
Facebook Twitter