Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: নভেম্বর 26, 2017

আমাদের সম্পর্কে


প্রকাশন তারিখ : 26-02-17 3:56 পূর্বাহ্ন

Last updated on নভেম্বর 26th, 2017 at 11:33 পূর্বাহ্ন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ষাট দশকের মধ্যবর্তী সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের স্থানীয় কাঁচামালা ও এর বাণিজ্যিক ব্যবহার উপলব্ধি করে উত্তর-পূর্ব আঞ্চলিক গবেষণাগার স্থাপনের ধারণা নেয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাব অনুযায়ী রাজশাহীতে ১৯৬৩-৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে মির্জাপুর নামক স্থানে একটি গবেষণাগার স্থাপনের লক্ষ্যে একশত একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়েছিল ১৯৬৮ সালের প্রারম্ভে। প্রাথমিক পর্যায়ে রেশম এবং লাক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের একটি ছোট গবেষণাগারের গবেষণা কাজ আরম্ভ হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে বর্তমান গবেষণাগারের ভৌত অবকাঠামোসহ সমস্ত কাজ শেষ হয়। এই গবেষণাগারের মূল উদ্দেশ্য হলো সহজলভ্য স্থানীয় কাঁচামাল সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এছাড়া এই গবেষণাগার স্থানীয় শিল্প কারখানার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কাজে সর্বতোভাবে নিয়োজিত রয়েছে এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যসমূহের গুণগতমান বৃদ্ধিতে তাদেও পরামর্শমূলক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক সহজলভ্য প্রচুর কাঁচামালের উপর ভিত্তি করে প্রথমতঃ তিনটি গবেষণা বিভাগ যথা- (ক) লাক্ষা গবেষণা বিভাগ, (খ) তেল, চর্বি ও মোম গবেষণা বিভাগ এবং (গ) আঁশ গবেষণা বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদুফল, ঔষধি গুন সম্পন্ন গাছ গাছালী, তেল বীজ ও জীব-বৈচিত্রের কথা বিবেচনায় রেখে আরো চারটি বিভাগ এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমানে রাজশাহী গবেষণাগারে ৭টি গবেষণা বিভাগ রয়েছে। গবেষণা বিভাগসমূহ হচ্ছে-
(ক) ন্যাচারাল প্রোডাক্টস রিসার্চ ডিভিশন,
(খ) ফাইবার এন্ড পলিমার রিসার্চ ডিভিশন,
(গ) অয়েলস্, ফ্যাটস্ এন্ড ওয়াক্সেস রিসার্চ ডিভিশন,
(ঘ) ফ্রুটস এন্ড ফুড প্রসেসিং এন্ড প্রিজারভেশন রিসার্চ ডিভিশন,
(ঙ) এ্যাপ্লাইড বোটানী রিসার্চ ডিভিশন,
(চ) এ্যাপ্লাইড জুওলজি রিসার্চ ডিভিশন,
(ছ) ড্রাগস্ এন্ড টক্সিনস্ রিসার্চ ডিভিশন।
বিজ্ঞানী, অফিসার ও কর্মচারীসহ বর্তমান গবেষণাগারের জনবল প্রায় ১০০জন। রাজশাহী গবেষণাগার উত্তরবঙ্গের একমাত্র বহুমুখীভিত্তিক গবেষণাগার যার গবেষণা কাজ দু’প্রকারের যথাÑ (ক) বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও (খ) শিল্পোৎপাদী গবেষণা। বিজ্ঞানীগণ উভয় গবেষণা কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত আছেন। বিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিক গবেষণায় সৃষ্ট জ্ঞান দেশের উন্নতিতে যথেষ্ট অবদান রাখে। আর শিল্পোৎপাদী গবেষণার লক্ষ্য হচ্ছে শিল্প-অর্থনৈতিক উন্নয়নের পক্ষে শিল্পের জন্য লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন। বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে পরামর্শ দেয়া ছাড়াও দেশে উৎপন্ন ও বিদেশ থেকে আমদানীকৃত পণ্যের রাসায়নিক বিশ্লেষণ, বিভিন্ন এডহক সমস্যার সমাধান গবেষণাগারের নিয়মিত কাজের একটি অংশ। দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষে আমাদের বিজ্ঞানীগণ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পদ্ধতি ও পণ্যে উদ্ভাবন করছে। আমরা গর্বের সাথে উল্লেখ করতে পারি যে, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এ যাবত ৩০০০ এর অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, ১৩২ টি পেটেন্ট সত্ত্ব অর্জিত হয়েছে, ১৬০ পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে এবং ৩৮টি পদ্ধতি ইজারা দেওয়া হয়েছে।


Share with :
Facebook Twitter